
বিশেষ প্রতিবেদন :: বরগুনার বেতাগী উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে পূবালী ব্যাংকের সহায়তায় ডাঙার খালের পাড়ে প্রায় ২ হাজারের অধিক বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে।
বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার উত্তর রানীপুর এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে একটি বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) তারিখে বেতাগী সদর ইউনিয়নের রানীপুর ডাঙার খালের দুই পাড়জুড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সৌজন্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফলজ, ভেষজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বরগুনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। স্থানীয় পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই সম্মিলিত উদ্যোগটি পুরো জেলা ব্যাপী স্থানীয় পর্যায়ে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে খালের পাড় সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারে এই বৃক্ষরোপণকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক লক্ষ্য পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পরিবেশ সচেতন বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খালের পাড়ে গাছ না থাকায় ভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান থাকে। স্থানীয়রা জানান, এই গাছগুলো বড় হলে একদিকে যেমন খালের পাড় সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি ফলজ ও ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছগুলো থেকে তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। রোপণ করা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্থানীয়রা বলেন, চারা রোপণ করা সহজ হলেও এর বেঁচে থাকা এবং বড় হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা মনে করেন, কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে এই চারাগুলোকে একটি স্থায়ী সবুজ বেষ্টনীতে পরিণত করতে, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার পুষ্টি নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার রোপিত চারাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে নানা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুধুমাত্র সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, বরং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ও বেতাগী শাখা ব্যবস্থাপক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোপিত গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকির জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিং এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই উদ্যোগকে সফল করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সবুজায়নের এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে বরগুনার উপকূলীয় জনপদগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে থাকা এই অঞ্চলে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কেবল মাটির গুণাগুণই রক্ষা করবে না, বরং জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সঠিক নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এই গাছ গুলো অদূর ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ বাস্তুসংস্থান তৈরি করবে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকেও এলাকাটিকে সুরক্ষা প্রদান করবে। পরিশেষে, এই কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করছে রোপিত চারাগুলোর পরিচর্যার ধারাবাহিকতার ওপর, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও, একই দিনে 🌱 ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় বেতাগীতে ৩০০টি গাছের চারা বিতরণ: পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এবং জেলা প্রশাসন বরগুনার গৃহীত Government Performance Management System (GPMS)-এর সেকশন-২-এর উদ্ভাবন ও সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, বেতাগী, বরগুনার আয়োজনে “বেতাগী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের” শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার।
একটি শিশু, একটি গাছ—সবুজ হোক আগামী দিনের বাংলাদেশ।

