ঢাকাWednesday , 12 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবসর-কল্যাণ ভাতার পূর্ণ অর্থ পরিশোধের দাবিতে বরিশালে শিক্ষকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিধি অনুযায়ী বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার শতভাগ অর্থ দ্রুত পরিশোধ, ভাতা প্রদানে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বরিশাল-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখার পরও অবসর জীবনে এসে নিজেদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মচারীদের। অনেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও অবসর ও কল্যাণ ভাতা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন। এটি শুধু আর্থিক ভোগান্তি নয়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি চরম অবিচার। বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে। অবসর ও কল্যাণ ভাতা নিয়ে নয়-ছয়, দুর্নীতি মানি না—মানবো না।’ চাকরিকালীন সময়ে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার পর অবসরে গিয়ে নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিধি অনুযায়ী যে অর্থ পাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে, তা কোনো দয়া বা অনুদান নয়; এটি তাঁদের ন্যায্য পাওনা। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ সুভাষচন্দ্র পাল বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরিকালীন সময়ে নিয়মিত চাঁদা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত অর্থ নেওয়া হয়েছে। অথচ অবসরের পর সেই অর্থের সুবিধা পেতে তাঁদের দীর্ঘ অপেক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে। একজন শিক্ষক তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার পর অবসর জীবনে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দ্রুত অবসর ও কল্যাণ ভাতার পুরো অর্থ পরিশোধের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু আংশিক অর্থ প্রদান করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, আবেদনকারী প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বিধিসম্মত সম্পূর্ণ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মিজানুর রহমান সেলিম বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে চাকরিকালীন সময়ে নিয়মিত অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা, অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সংগঠনের সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কারও করুণা চান না। তাঁরা চান তাঁদের ন্যায্য অধিকার। বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে। সমাবেশে সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ জাকির হোসেন হাওলাদার, নারী বিষয়ক সম্পাদক টুনু রাণী কর্মকার, বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ শাহে আলম ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন ওয়াহিদ বক্তব্য দেন। তাঁরা দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সকল  বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে আপাতত অবসর ও কল্যাণসুবিধার একটি অংশ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সূত্রের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অবসরসুবিধার জন্য আবেদন করা ৭০ হাজার ১১৯ জনকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ৩০ জুন পর্যন্ত কল্যাণসুবিধার জন্য আবেদন করা ৫৩ হাজার ৪৭৭ জনকে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে একজন শিক্ষক আপাতত অবসরসুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ সাড়ে চার লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধা হিসেবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে গ্রেড অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। চলতি মাসের ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সরকারের এ উদ্যোগে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি এলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, আংশিক অর্থ প্রদান কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাঁদের দাবি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিধিসম্মত পূর্ণ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।