ঢাকাশনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উজিরপুরে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারের ন্যায়বিচারের আকুতি

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১১, ২০২৬ ১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭১

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের পশ্চিম শোলক গ্রামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই এলাকার মৃত ফজর আলী সরদারের ছেলে বেলাল সরদারকে অভিযুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৯ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই নারী স্থানীয় একটি পানের বরজে কাজ করতে যান। কাজের একপর্যায়ে আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি কমে গেলে অভিযুক্ত বেলাল সরদার তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার হওয়ায় তারা নিজেদের অসহায় দাবি করে বলেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে তারা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নানা ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ তুলেছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে অথবা অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।