ঢাকারবিবার , ২৪ মে ২০২৬

কুরবানির গোশত বণ্টনের বিধান

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মে ২৪, ২০২৬ ৪:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৫

ধর্ম ডেস্ক :: কুরবানির গোশত বণ্টনের বিধান

 

প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন যে কেউ ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব

প্রাপ্তবয়স্ক ও স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন যে কেউ ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। অর্থাৎ, কেউ সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ টাকা কিংবা সম্পদের মালিক হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তার কুরবানি করা আবশ্যক।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সেসবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবির পাঠ করতে পারো, এ জন্য যে তিনি তোমাদের হেদায়াত দান করেছেন, সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও। (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

অন্যদিকে মাহনাফ ইবন সুলায়মান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে আরাফায় অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি (নবীজি) বলেন, হে লোক সকল! আমাদের প্রত্যেক গৃহবাসীর ওপর প্রতি বছর কুরবানি করা ওয়াজিব। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৭৯)

মূলত ঈদুল আজহার দিনে ঈদের নামাজের পর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করতে হয়। বারাআ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুল (সা.) কে খুতবা ‍দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমাদের আজকের এ দিনে (ঈদুল আজহা) আমরা যে কাজ প্রথম শুরু করবো, তা হলো সালাত (নামাজ) আদায় করা। এরপর ফিরে আসবো এবং কুরবানি করবো। তাই যে এরূপ করে সে আমাদের রীতিনীতি সঠিকভাবে পালন করলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯০৩)

এ ক্ষেত্রে কুরবানির পশু যেমন সুস্থ হতে হবে, তেমনি রোগাক্রান্ত হওয়া চলবে না। এমনকি কানা-খোঁড়া পশু দিয়ে কুরবানি দেয়াও উচিত নয়। অন্যদিকে শরিয়তে কুরবানির পশুর গোশত ৩ ভাগে ভাগ করার বিধান রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো- কেউ যদি কুরবানির গোশত ৩ ভাগ না করে তবে কি তার কুরবানি বিশুদ্ধ হবে?

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা কুরবানির গোশত বণ্টনের বিষয়ে ইরশাদ করেছেন- ‘যেন তারা নিজদের কল্যাণের স্থানগুলোয় হাজির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দিয়েছেন তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোয় আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খেতে দাও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮)

ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, সুরা হজের এই আয়াত থেকে কুরবানির পশুর গোশত ৩ ভাগে ভাগ করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এজন্য বেশিরভাগ ওলামায়ে-কেরাম কুরবানির পশুর গোশত ৩ ভাগে ভাগ করাকে মুস্তাহাব বা উত্তম বলেছেন। যারমধ্যে একটি ভাগ নিজের জন্য এবং আরেকটি ভাগ প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়ানোর জন্য। এছাড়া আরেকটি ভাগ গরিব ও অভাবী মানুষদের মধ্যে বণ্টন করতে হয়।

জনপ্রিয় এই ইসলামী স্কলারের মতে, কেউ যদি কুরবানির পশুর গোশত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ৩ ভাগ করতে না পারেন, বা নিজের ভাগে একটু বেশি রয়ে যায় অথবা গরিব-অভাবীদের মধ্যে একটু কম দান করেন, সে ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ৩ ভাগে ভাগ করা আবশ্যক নয়।

তবে এ ক্ষেত্রে কুরবানির গোশত ৩ দিনের বেশি রাখা যাবে কিনা এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই ধোঁয়াশা কাজ করে। মূলত সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুল (সা.) ৩ দিনের বেশি কুরবানির গোশত রাখতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে, নবীজি পরবর্তীতে এই বিধান রহিত বা বাতিল করেছেন। ফলে কুরবানির পশুর গোশত ৩ দিনের বেশি সময় ধরে রেখে খেলেও সেটি জায়েজ বলেও অভিমত জনপ্রিয় এই ইসলামী স্কলারের।