ঢাকাSunday , 30 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রাম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গ্রাম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের।

গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তথ্য ব্যবস্থাপনাকে দ্রুত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।

তিনি বলেছেন, গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনা যত বেশি সহজ ও ডিজিটাল হবে, প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ ততই সহজ হবে। একই সঙ্গে মামলা পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার।

খলিল আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা এখন সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম সময় ও কম খরচে ঘরে বসেই নিতে পারছেন। গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি আরও কমবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল সিস্টেমে মামলা এন্ট্রি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। ফলে মামলার তথ্য পরিবর্তন বা কারচুপির সুযোগ কমে যায়। প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে ন্যায়বিচার সহজে পৌঁছে দিতে সরকার গ্রাম আদালত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, গ্রাম আদালতের মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের নথিপত্র প্রস্তুত ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলার কাগজপত্র কীভাবে যাচাই-বাছাই করে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তার ওপর পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভর করে।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকে। তাই মামলার নথি প্রস্তুত ও উপস্থাপনের সময় কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে সতর্ক করে খলিল আহমেদ বলেন, আইনে সাধারণভাবে ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতের মামলা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। প্রয়োজন হলে আবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। তবে কোনো মামলা ছয়-সাত মাস কিংবা দুই বছর ধরে চলতে থাকলে তা আইনের উদ্দেশ্য ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ কারণে নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক উপমা ফারিসা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা।

প্রশিক্ষণে বরিশালের ৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।