ঢাকাশনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে বদলে যাবে বরিশালের চিত্র মনিরুজ্জামান খান ফারুক

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১১, ২০২৬ ৮:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৪

মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় :: বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের মধ্য দিয়ে বরিশালের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, উন্নয়ন বৈষম্য ও বিভিন্ন সংকটে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে বরিশালবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে এবং ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিরোধী দলে থাকাকালীন আমি বলেছিলাম, প্রয়োজনে রক্ত দেব, জীবন দেব, তবুও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং জনাব তারেক রহমানকে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনব। আজ সেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের বরিশালে আসছেন। এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ।”

আরও দেখুন
ক্রাইম নিউজ
Violent Crime
Crime & Justice
বিনোদন সংবাদ
জাতীয় সংবাদ
মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, তিনি সবসময় মানুষের কল্যাণের রাজনীতি করেছেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার প্রেরণা পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মানবিক রাষ্ট্রনায়ক। তিনি মানুষের কষ্ট, প্রকৃতি, পরিবেশ ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও চিকিৎসা কার্ডের মতো জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”Politics (Right)

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট ঘোষণা করেছে। এ বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলেও বাজেটে বরিশাল বিভাগের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলক কম। তিনি মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বরিশালের উন্নয়নে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা, ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহ নিশ্চিত করা, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সংকট নিরসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষ অনুরোধ জানাব, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে বরিশালে একটি ‘জিয়া পাঠাগার ও ক্রীড়া সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করা হোক। এতে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়বে, খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি পাবে এবং মোবাইল ও মাদকের আসক্তি থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।”Demographics

সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে ২০২৫ সালে বরিশাল মহানগর বিএনপির ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দাবি জানান এবং বলেন, এ বছরের মধ্যেই মহানগর কমিটির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে দ্রুত ওয়ার্ড কমিটি গঠন জরুরি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাকে মাসের পর মাস কারাভোগ করতে হয়েছে। ২০২৩ সালে রাজনৈতিক মামলায় আমাকে হাত-পায়ে বেড়ি পরিয়ে বরিশাল থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আমাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। কিন্তু এত কিছুর পরও আমি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।”

আরও দেখুন
News
Islam
Colleges & Universities
Politics
রাজনীতি সংবাদ
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর আমার কোনো নেতাকর্মী অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়নি। আমি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অর্থ ব্যয় করে রাজনীতি করে যাচ্ছি। তবুও আমি এখনো যথাযথ মূল্যায়ন পাইনি। আমার রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, বরিশালবাসী ও সাধারণ নেতাকর্মীদের স্বার্থে আমাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হোক। দল যে দায়িত্ব দেবে, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”Maps

বরিশালবাসীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় বরিশালের মানুষের পাশে ছিলেন। বরিশালকে বিভাগে উন্নীত করা থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বরিশালের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কীর্তনখোলার ওপারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্বনির্ভর খাল পরিদর্শন করবেন। কৃষকদের দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।