ঢাকামঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে কলেজ ছাত্রের হাত বিচ্ছিন্ন করার নৃশংস মামলার আসামি হিমেল গ্রেফতার

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৭, ২০২৬ ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর নলিদাস পোল এলাকায় কলেজছাত্র দ্বীন ইসলাম খান মুন্নাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করার নৃশংস মামলার ৩ নম্বর আসামী হিমেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব-৮ ও র‍্যাব-১০-এর যৌথ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার শ্যামপুর থানার উল্টো জুরাইন ধোলাইপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে র‍্যাব হিমেলকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম খান মুন্না। গত ৩০ মে তাদের এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির জন্য আনা বালু রাখা নিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে মুন্নাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।

মুন্নার বাবা লিটন খান জানান, ৩০ মে রাতেই স্থানীয়ভাবে সেই বিরোধের মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরদিন ৩১ মে সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। মুন্না নলিদাস পোল এলাকায় কাজে যাওয়ার পথে একই এলাকার মিলন খান, কালাম খান, রানা খান, হিমেল হাওলাদার ও নার্গিস বেগমসহ একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা মুন্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। এই বর্বরোচিত হামলায় মুন্নার একটি হাত শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। মুন্না বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এম. রবি আহসান জানান, গত ৪ জুলাই পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামীদের একটি দোকানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। হামলায় ব্যবহৃত এই অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত ইতিমধ্যে রাসায়নিক ও আইনি পরীক্ষার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা দিনরাত অব্যাহত রয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মেট্রোপলিটন ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মামলার প্রধান ১ ও ২ নম্বর আসামীসহ পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, এই নৃশংস হামলার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। খুব দ্রুতই পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।