ঢাকাSunday , 1 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বরিশাল আমার প্রাণ, সুযোগ পেলে নগরীর রূপ বদলে দেব’নমেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘বরিশাল সিটি আমার প্রাণ! ওখানেই আমার বাড়ি, আমার ঘর, ওটা আমার নিজের শহর। বরিশালের রাস্তাঘাট, ইট-পাথর, বাতাস—সবকিছুর সঙ্গে আমার আবেগ ও ভালোবাসা মিশে আছে। এই শহরেই আমার জন্ম, এই শহরকে আমি ভুলব কী করে? দল যদি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, তাহলে বরিশালের রূপ পরিবর্তন করে দেব।’—এভাবেই নিজের জন্মস্থান বরিশাল নগরীকে ঘিরে আবেগ, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

বরিশাল নগরীর সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বরিশাল শুধু তাঁর রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র নয়, এটি তাঁর জন্মস্থান, শৈশব-স্মৃতি ও শেকড়ের ঠিকানা। এই শহরের প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি, ইট-পাথর এবং পরিচিত পরিবেশের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই বরিশাল থেকে দূরে থাকলেও নগরীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও টান কখনো কমেনি।

২০০৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, ওই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফলাফল চুরি করে তাঁকে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পরও সেই নির্বাচনের স্মৃতি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে আবারও বরিশালে ফিরে আসতে চান। নগরীর মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের প্রত্যাশা ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে চান। তাঁর ভাষায়, বরিশালের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য তাঁর রয়েছে বিশেষ আবেগ এবং আগ্রহ।

মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দল যদি তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নগরীর চেহারা পরিবর্তনে কাজ করবেন। তাঁর প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বরিশালকে নতুন রূপ দেওয়া সম্ভব।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর এই বক্তব্যকে বরিশাল নগরীর মেয়র পদে সম্ভাব্য আগ্রহের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতি সামনে এনে পুনরায় বরিশালে ফেরার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

তবে দলীয় মনোনয়ন এখনো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা।

সব মিলিয়ে এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর বক্তব্যে উঠে এসেছে জন্মশহর বরিশালের প্রতি গভীর আবেগ, অতীত নির্বাচনের স্মৃতি এবং আবারও নগরীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি কি আবারও বরিশাল নগরীর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে ফিরবেন?