
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীতে রাতের আঁধারে জলাশয় ভরাট, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘিয়া এলাকায় রাতের আঁধারে অব্যাহতভাবে জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন রাত নামলেই ভারী ট্রাক ও এক্সকাভেটরের মাধ্যমে জলাশয়ে মাটি ফেলা হয় এবং ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ করে সবকিছু আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। এতে প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই জলাশয়গুলো অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণ করে এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঘিয়া এলাকার আব্দুল রহিম হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি এই ভরাট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে কাশিপুর এলাকার সজল কাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রভাবশালী মহলের চাপে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেক বাসিন্দা।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, নগরীর জলাশয় ভরাট হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীকে চরম পরিবেশগত সংকটে পড়তে হতে পারে। দ্রুত অবৈধ ভরাট কার্যক্রম বন্ধ না করলে বরিশাল নগরী ভবিষ্যতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত অবৈধ জলাশয় ভরাট বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং নগরীর প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।

