ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বরিশাল সদরে বিএনপির মজিবরকে চ্যালেঞ্জ হাতপাখার ফয়জুল করীমের

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২১১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশের মতো ভোটের হাওয়া লেগেছে বরিশালেও। বিভিন্ন আসনে প্রচারণায় মুখর বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। এর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচনায় আছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনটি। এখানে বিএনপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

অর্থাৎ, বরিশাল-৫ আসনে ভোটের মাঠে মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও হাতপাখার মাঝে। তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের একজন। অন্যদিকে, হাতপাখা প্রতীকে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ না হওয়ায় এককভাবেই নির্বাচন করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনে যে আসনগুলো ঘিরে দলটির প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি তার অন্যতম বরিশাল-৫। কেননা এই আসনটি থেকেই লড়ছেন দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম, যিনি সমর্থকদের কাছে ‘শায়েখে চরমোনাই’ নামেও পরিচিত।

 

এক নজরে বরিশাল-৫ আসন
১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত মোট ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে এই আসনে বিএনপি ৬ বার, আওয়ামী লীগ ৪ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার জয়ী হয়। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার ৩ বার এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

 

দেশের বিভিন্ন আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও বরিশাল-৫ আসনে কোনো দলই তাঁদের দলের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। ফলে এই আসনে নেই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী।

জামায়াতের সাথে সামগ্রিকভাবে জোটবদ্ধ না হলেও বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতের সমর্থন পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী ফয়জুল করীম। প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর এ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল নির্বাচনে থাকলেও পরবর্তীতে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দেন।

এই আসনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এবার এখানে নেই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীও। অর্থাৎ, মোট ৬ জন প্রার্থীর সকলেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। ধানের শীষ ও হাতপাখার প্রার্থীদ্বয়ের পাশাপাশি এই আসনটিতে লড়াইয়ে আছেন: মনীষা চক্রবর্তী (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ), আখতার রহমান (জাতীয় পার্টি), আব্দুল হান্নান সিকদার (ন্যাশনাল পিপলস্ পাটি- এনপিপি), এবং মোঃ সাইদুর রহমান (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী))।

উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে তা নিয়েও ভোটের মাঠে জোর আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রেও বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাই এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।