ঢাকাশুক্রবার , ৩ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শৈশবের ক্ষোভ থেকে  মাকে হত্যা করে ছেলে, ঘাতক ছেলে গ্রেপ্তার

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৩, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিউজ ডেস্ক :: শৈশবের ক্ষোভ থেকে  মাকে হত্যা করে ছেলে, ঘাতক ছেলে গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি নির্জন কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের আট দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার মুল্লুক মাঝির কান্দি গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি কাজ শুরু করলেও মৃত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিয়মিত মনিটরিং করা হয় এবং প্রতিদিন তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একপর্যায়ে মো. জনি নামে এক ব্যক্তির ওপর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করতেন। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে কলাবাগানের দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। গ্রেপ্তারকৃত জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। কোনো পরিচয় ছিল না, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও ছিল না। তথ্য-প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের নিরলস তদন্তের মাধ্যমে আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, মামলাটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। দিন-রাত পরিশ্রম করে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না এবং পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।