
নিজস্ব প্রতিবেদক :: স্বামীর টাকায় লেখাপড়া করে চাকরী, সহকর্মীর সাথে পরকীয়া।
পরকীয়া প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর আইন করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক স্বামী। এ সময় স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে মারপিট ও নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে নিজের দাম্পত্য সংসারের নানা অভিযোগ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের করেন জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ১ নম্বর সাতপুয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. সাগর আহম্মেদ।
তবে বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলা বসবাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
সংবাদ সস্মেলনে ভুক্তভোগী স্বামী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৮ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমাদের দাম্পত্য সংসারে ৩ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। বিয়ের পর আমি আমার স্ত্রীকে নিজের টাকা খরচ করে ডিগ্রী পাশ করিয়েছি। এরই মাঝে শাশুড়ী ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে পরিবারকে সাপোর্ট করতে আমার স্ত্রী আম্বালা ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মাইক্রোক্রেডিট অফিসার হিসাবে চাকরিতে যোগদান করে। সেখানে চাকরির সুবাদে রিয়াদ নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে অবৈধ পরকীয়া জড়িয়ে যায়। বিষয়টি আম্বালা ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মিল্টনকে জানালে তিনি অভিযোগ আমলে না নিয়ে তার লোকজন নিয়ে উল্টো আমাকে মারধর করে। এ ঘটনায় আম্বালা ফাউন্ডেশনে লিখিত অভিযোগ করায় বর্তমানে তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি অবহিত করে গত ২৫ ডিসেম্বর ভালুকা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাগর আহম্মেদ আরও বলেন, আমি পরকীয়ার প্রতিবাদ করে বর্তমানে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বর্তমান সমাজে আমার মত আরও অনেকেই এ নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু সম্মানের ভয়ে অনেকেই তা প্রকাশ করে না বা করেও আমার মত নির্যাতনের শিকার হয়। এ অবস্থায় আমি চাই পরকীয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি আইন করা হোক, যে আইনে সুনির্দ্দিষ্ট ধারায় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই আইনকে দেশের মানুষ সম্মান করবে এবং যারা পরকীয়া করবে, তারা ছেলে বা মেয়ে যেই হোক। তারা সবাই যেন এই পরকীয়া আইনকে সবাই ভয় পায়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর ৩ বছরের ছেলে সন্তানসহ ছোট ভাই সজীব ইসলাম, প্রতিবেশি রাসেল আহম্মেদ, মঞ্জুরুল ইসলাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


