
নিজস্ব প্রতিবেদক :: আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে মানবতার পাশে রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন।
মানবিকতা, নৈতিকতা ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন। এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দাওয়াহ, মানবসেবা এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
২০২৫ সালে বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও চিন্তাবিদ শায়খ মু. নুমান রিডার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন বর্তমানে তাঁরই নেতৃত্বে নবীজী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে একটি মানবিক ও নৈতিক সমাজ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রসার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন— এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নীতি ও আদর্শ
রিডফোর্ড ফাউন্ডেশনের নীতি ও আদর্শের ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ। সকল মানুষের প্রতি সমান সহযোগিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করাই এর মূল দর্শন। অরাজনৈতিক, দলনিরপেক্ষ ও কল্যাণকামী মানসিকতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি “বিশ্বব্যাপী এক কুরআন, এক নবী, এক লক্ষ্য, এক উম্মাহ”—এই স্লোগান ধারণ করে একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ গঠনের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে।
শিক্ষা কার্যক্রম
শিক্ষা উন্নয়নে রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন মাদ্রাসা ও মসজিদভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র উন্নয়ন, আধুনিক স্কুল-কলেজ স্থাপন এবং কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি এতিম, মিসকিন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি সচেতন ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা
স্বাস্থ্য খাতে ফাউন্ডেশনটি অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ঔষধ বিতরণ, বিশেষ রোগীদের আর্থিক সহায়তা এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সার্বজনীন মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
দারিদ্র্য বিমোচন ও পুনর্বাসন
দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা, রমজানে ইফতার বিতরণ, ঈদ উপহার, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তার মাধ্যমে মানুষের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং ঘরহারা মানুষের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।
দাওয়াহ ও সচেতনতা কার্যক্রম
দাওয়াহ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত মাহফিল, সেমিনার, কর্মশালা এবং যুবসমাজকেন্দ্রিক মোটিভেশনাল প্রোগ্রামের আয়োজন করে থাকে রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে তার সমাজকল্যাণ তহবিল পরিচালনা করে। নিয়মিত অডিট, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয় বিবরণী এবং ফলাফল মূল্যায়নের মাধ্যমে দাতাদের আস্থা বজায় রাখা হয়। ফলে শিল্পপতি ও দাতারা নিশ্চিন্তে মানবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন। শিল্পপতি ও দাতাদের প্রতি আহ্বান সম্প্রতি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ মু. নুমান রিডার বলেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। শিল্পপতি ও উদ্যোক্তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মানবকল্যাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, “রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে সহযোগিতা সরাসরি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।” তাঁর মতে, ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক অবদানই একজন শিল্পপতির প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য বিমোচন, এতিম ও অসহায় শিশুদের সহায়তা, নারীদের কর্মমুখীকরণ এবং দুর্যোগকালীন পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী সমাজের আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানবতার এই যাত্রায় অংশ নিতে এবং অনুদান প্রদান করতে ভিজিট করুন— www.readfordfoundation.org


