
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক—যাঁর নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং পরিবারিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছে।
১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিশেষ করে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেরে বাংলা ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্য ও গণিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও ফার্সি ভাষায় তাঁর দক্ষতা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে আলোচিত তাঁর অবদান লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন, যা উপমহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে গভীর প্রভাব ফেলে। এই প্রস্তাবই পরবর্তীতে মুসলিম জাতির পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল এই মহান নেতা ইন্তেকাল করেন। তাঁকে ঢাকার তিন নেতার মাজার-এ দাফন করা হয়।
শেরে বাংলার পরিবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল। তাঁর ছেলে এ কে ফায়জুল হক বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে রাজনীতি করে মন্ত্রীসভায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭০, ১৯৭৯ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে তাঁর নাতনি রাজিয়া বানু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন এবং ড. কামাল হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
পরিবারের নতুন প্রজন্মেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা যায়। শেরে বাংলার নাতি ফাইয়াজুল হক রাজু ব্যবসা ও রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি বরিশাল-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।
বাংলার ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নেতৃত্বগুণ আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর পরিবারও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

