ঢাকাMonday , 31 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীর রুপাতলী স্কুলের সেই দপ্তরির ২মাস পর চাকুরীতে যোগদান, টাকা লেনদেনের অভিযোগ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭১

নিউজ ডেস্ক ::  বরিশাল নগরীর রুপাতলী স্কুলের সেই দপ্তরির ২মাস পর চাকুরীতে যোগদান, টাকা লেনদেনের অভিযোগ।

৪১নং রুপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রিয়াজ খানের পুনরায় যোগদানের অনুমোদন কীভাবে হলো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশালের ৪১নং রুপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী মো. রিয়াজ খানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, শিক্ষকদের আদেশ অমান্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

গত ১মে দৈনিক সময়ের বার্তায় রিয়াজের অনিয়ম ও চুরির সংবাদ প্রকাশের পর আত্মগোপনে চলে যান দপ্তরি রিয়াজ খান। তবে একাধিক অভিযোগ থাকার পরও পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার পুনরায় যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, ৩বছরের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোনো যৌক্তিক কারণ বা অনুমতি ছাড়া ১৫ কর্মদিবসের বেশি অনুপস্থিত থাকলে চুক্তি বাতিলের বিধান রয়েছে। এছাড়া বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি চুক্তিভঙ্গ হিসেবে গণ্য এবং ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ নীতিতে অনুপস্থিত সময়ের বেতন বা সেবামূল্য কর্তনের সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত অনুপস্থিতিকে দায়িত্বে অবহেলা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে চুক্তি বাতিলের সুপারিশও করতে পারবে স্কুল কতৃপক্ষ।
এ অবস্থায় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রিয়াজ খানের পুনরায় যোগদানের অনুমোদন কীভাবে হলো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দপ্তরি মোঃ রিয়াজ খাঁন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার ২০১৩ সালে চাকুরী যোগদান করেন।পরে প্রায় ৫ বছর নিয়মিত স্কুলে ডিউটি করলেও
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন। তার পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাকে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন, অথচ নিয়মিত সরকারি বেতন উত্তোলন করছেন।

সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, রাতে স্কুলের ক্লাসরুমে কিশোর গ্যাং নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবনের আড্ডা বসেন। ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, সাউন্ড বড় ৯টি ফ্যান ও স্কুলের ঘণ্টাসহ মূল্যবান মালামাল চুরি। স্কুলে ডিউটি না করেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন। শিক্ষার্থীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং শিক্ষকদের আদেশ অমান্য করা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ জানায়, ২০১৭ সালে দপ্তরি – কাম নৈশপ্রহরী দায়িত্বে থাকার সময় রাতে স্টীল আলমারীর মধ্যে থাকা ০১টি মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টর, ০১টি সাউন্ড বক্স, ০১টি তোয়ালে চুরি হয়। যার পূর্বে বাজারমূল্য অনুমান ৫৯,২০০/- টাকা। এঘটনায় ৪১নং রুপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরিনা আখতার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন যাহার নং – ১২৭৭। তবে গত ১৪মে স্কুলে মেইন বিদ্যুৎতিক তার, বেঞ্চ, লাইটসহ নানা মালামাল চুরি হয়। পরে প্রধান শিক্ষক কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন ও অভিযোগে দপ্তরি রিয়াজকে কাম-নৈশপ্রহরী হিসাবে অভিযুক্ত করা হয়।

 

একটি সূত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ১৭ সালে চুরির পর রিয়াজ খাঁন স্কুলে ঠিকমত ডিউটি করে না। তিনি তার বাবা রশিদ খাঁনকে দিয়ে তার ডিউটি করায়। রাতে স্কুলে কিশোর গ্যাং নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করেন। আর স্কুলের ক্লাস রুমের চাবি রিয়াজের কাছে থাকায় স্কুল প্রায় ৯টি ফ্যান, ১টি মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টর, ১টি সাউন্ড বক্স, স্কুলের ঘন্টাসহ নানা জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এছাড়া পুরো স্কুলে ময়লা আবর্জনায় ভরা। এতে করে ময়লায় পানি জমে জমে ডেঙ্গু মশাসহ নানা পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়ে চলছে। স্কুলে বাচ্চাদের বাজে মন্তব্য করে দপ্তরি।
কেউ প্রতিবাদ করলেই রিয়াজ নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আবার রিয়াজ বাচ্চাদের গাইড কিনে দেয়া কথা বলে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ ও স্কুলে চুরি করে মালামাল বিক্রি ও করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খলিফা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সত্য। সে অত্যন্ত অবাধ্য প্রকৃতির লোক।
রিয়াজ খানকে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াজ নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক একাধিকবার অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের অনেক মালামাল বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে রিয়াজ খানের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তবে একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মেরিনা আখতারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তার দাবি, প্রধান শিক্ষক একদিকে রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, অন্যদিকে তাকেই আবার বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দিয়েছেন।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেরিনা আখতার বলেন, “রিয়াজ ঠিকমতো স্কুলে আসে না। তার পরিবর্তে বৃদ্ধ বাবাকে পাঠায়। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে চুরির মালামাল ফেরত দেওয়া ও নিয়ম মেনে চলার শর্তে একটি অঙ্গীকারনামা দিয়ে নিজের চাকরি রক্ষা করেছিলেন রিয়াজ। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। উল্টো অঙ্গিকারনামা দেয়ার পর রিয়াজ আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। তবে চলতি মাসে মেডিকেল ভর্তির কিছু কাগজ ডাকযোগে পাঠায় রিয়াজ। পরে স্কুলের জন্য আমরা তাকে আবার চাকুরির যোগদান করতে বলেছি। তবে রিয়াজ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যোগদানের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, টাকার জন্য কিছুই হয় নি। দুইমাস পর রিয়াজ এসেছে। আমি ভুলে তার বেতনের আবেদন ও মেডিকেল কাগজ রেখেছি। তবে কোন টাকা লেনদেন হয় নি।

 

এবিষয় অভিযুক্ত রিয়াজ খান মুঠোফোনে বলেন, আমি মানসিক ডাক্তারের শেবাচিম হাসপাতালে ২মাস চিকিৎসা নিয়েছি। আমি কোন মাদক সেবন করি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছে। চুরি হওয়া অনেক মালামাল আমি কিনে দিয়েছি। আমি কাউকেই টাকা দিয়ে চাকুরিতে যোগদান করি নাই। তবে আমার চাকুরী আওয়ামী লীগের কার সুপারিশে হয়েছে আমি জানি না সেটা আমার বাবা জানে। আমার বেতন দেয় না। স্যাররা আমার বেতন আটকে রেখেছে।