
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিশ্বাস করুন আর নাই করুন বরিশালে স্বর্ণের দাম পাওয়া গেছে প্রতি ভরি দুই হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। তবে এমন দাম স্বর্ণের বাজারে নয় বরং মিলেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া প্রার্থিদের হলফনামায়। এগুলো আবার নোটারি করে জমা দেয়া। সত্যমিথ্যে যাচাই প্রক্রিয়া না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে ধারনা স্থানীয় সুশীল সমান ও নির্বাচক পর্যবেক্ষকদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ৬টি আসনের প্রার্থিরা হলফনামায় তাদের কাছে থাকা মোট ৮৩২ ভরি স্বর্ণের হিসাব দাখিল করেছেন। এদের মধ্যে ১৮ জনের কাছে কোন স্বর্ণ নেই এবং ১৬ জন স্বর্ণের দাম উল্লেখ করেননি। বাকিরা স্বর্ণের যা দাম উল্লেখ করেছেন তাতে মাথায় ভাজ পড়ার উপক্রম হয়েছে। খোদ স্বর্ণকাররা বলেছেন ‘বর্তমানে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা স্বর্ণের ভরি।
মান্না কর্মকার নামে এক স্বর্ণকার বলেন-দেশ স্বাধীনের আগে আমাদের দোকানে স্বর্ণ বিক্রি করেছি ১৩৫ থেকে দেড়শ টাকা ভরি। ১৯৭৩ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত এক হাজার থেকে ১৪শ টাকা ভরি ছিলো। এখন দুই লাখ টাকার উপরে ভরি। সব আমার সামনে হয়েছে। রীতিমতো গল্পের মতো লাগে। বরিশাল জুয়েলারি মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ শেখ মো: মুসা বলেন-আমরা বর্তমানে ২২ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি দুই লক্ষ ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি করছি ২ লক্ষ ১২ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি করছি ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায়। সোনা কেনার সময় আমরা নানা সুবিধা দিচ্ছি।
স্বর্ণের বাজারের এমন অবস্থার সময় বরিশাল-২ আসনে জাসদের প্রার্থি আবুল কালাম আজাদ তার কাছে থাকা ১৬ ভরি সোনার দাম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন ৩৬ হাজার টাকা। তিনি প্রতি ভরি সোনার দাম ২২৫০ টাকা দেখিয়েছেন। বরিশাল-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন এর প্রার্থি এছহাক মো: আবুল খায়ের তার নিজের ৩০ ভরি স্বর্ণের দাম দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা। বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থি তহিদুল ইসলাম তার নিজের ১০ ভরি স্বর্ণের দাম উল্লেখ করেছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থি মজিবর রহমান সরোয়ার তার ৫০ ভরি সোনার দাম উল্লেখ করেননি। স্বর্ণ নাই দেখিয়েছেন অনেকেই। সর্বোচ্চ ২০০শ ভরি স্বর্ণ দেখিয়েছেন বরিশাল-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থি গোলাম কিবরিয়া টিপু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৭ ভরি স্বর্ণ রয়েছে বরিশাল ৫ ও ৬ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো: ফয়জুল করিমের। কিন্তু এরা কেউই স্বর্ণের দাম দেখাননি।
এক নারি ভোটার বলেন-হলফনামায় ২২৫০ টাকা সোনার ভরির দাম দেখে অবাক হয়েছি। একজন প্রার্থি কিভাবে এমন মিথ্যা তথ্য দিতে পারে বুঝি না। প্রার্থি যদি স্ব-ইচ্ছায় এমনটা করে থাকে তবে তা সে অপরাধ করেছে।অপরজন বলেন-হলফনামা একটি বিশ্বাসের জায়গা। যারা মিত্যা তথ্য দিয়েছে তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।
সুজনের দৃষ্টিতে স্বর্ণ নিয়ে প্রার্থীদের এমন উপস্থাপন রীতিমতো প্রতারণা। তারা এমন তথ্য প্রদানকারিদের মনোনয়ন বাতিল করে তাদের আইনের আওতায় নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সুজন এর মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন-স্বর্ণ নিয়ে হলফনামায় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যগুলো প্রতারণার সামিল এবং সাংঘর্ষিক। স্বর্ণ এবং এর দাম হালনাগাদ হওয়া উচিৎ ছিলো। এমন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনকারীদের মনোনয়ন বাতিল করে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।


