
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার পরিকল্পনা হয় সিঙ্গাপুরে।
হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী * ডিবির চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জন, শুটার ফয়সালসহ ৫ জন পলাতক
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাসের মাথায় এসে মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চার্জশিটে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
Advertisement
এদিকে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, হাদি হত্যার ছক চূড়ান্ত হয় সিঙ্গাপুরে বসে। হত্যা পরিকল্পনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা, সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এবং হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ। এ হত্যার নীলনকশা প্রণয়নে দেশি-বিদেশি একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পতিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং তাদের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। সিঙ্গাপুরে বসে ওই নেটওয়ার্কের পাঁচ দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যমুনা টেলিভিশন।
Advertisement
চার্জশিট-পূর্ববর্তী ডিবির সংবাদ সম্মেলন : আদালতে চার্জশিট দাখিলের আগে মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন সময়ের আলোচিত রাজনৈতিক কণ্ঠ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসাবে তিনি সভা-সমাবেশ, টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অতিত সহিংস কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করতেন। এতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিশোধপরায়ণতা তৈরি হয়। এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল নির্দেশদাতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীকে। আর হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সরাসরি গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদকে।
ডিবির তথ্যমতে, চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামি হলেন-ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া তার সহযোগী মোটরসাইকেলচালক আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী মো. আলমগীর হোসেন (২৬), ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী (৪৩), আদম পাচারের দালাল ফিলিপ স্নাল (৩২), শুটার ফয়সালের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১), বোন জেসমিন আক্তার (৪২), বাবা মো. হুমায়ূন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), দালাল সিবিয়ন দিও (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), ফয়সালের ভগিনীপতি মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) এবং সহযোগী মো. ফয়সাল (২৫)। এর মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর শেখ, তাইজুল ইসলাম বাপ্পী, জেসমিন আক্তার ও মুক্তি মাহমুদ এখনো পলাতক।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, কাউন্সিলর বাপ্পীর নির্দেশনা ও সরাসরি পরিকল্পনায় হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়িত হয়। গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং তাকে সহযোগিতা করেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন শেখ। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তারা ভারতে পালিয়ে যান। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ফয়সালের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ ও দালাল ফিলিপ স্নাল নামে আরেক সহযোগীও তাদের দেশত্যাগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীর এই নির্দেশের কারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদি একটি নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং তার বক্তৃতার মাধ্যমে সরকার, আওয়ামী লীগ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সত্য ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এসব সমালোচনার কারণেই আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিলর ফয়সালকে হত্যা করতে বলেন। এ হত্যা মামলার তদন্তকালে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ এসেছে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তদন্তে জানা গেছে, হত্যার আগে থেকেই হাদির গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা এবং ধারাবাহিক গণসংযোগ তার ওপর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। এ পর্যন্ত মামলায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, নতুন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের রাতেই ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশত্যাগে সহায়তা করেন বাপ্পীর ভগিনীপতি আমিনুল ইসলাম। বাপ্পীর সরাসরি নির্দেশনায় দালাল ফিলিপের মাধ্যমে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত ব্যবহার করে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। বর্তমানে আমিনুল ইসলাম গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
আসামি ফয়সাল করিম সম্প্রতি একাধিক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি বিদেশে আছেন এবং ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তাকে ও তার পরিবারকে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ফয়সালের ভিডিও বার্তা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ফয়সাল তিনটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হয়নি, এটা মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো আসেনি, তবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ভিডিও বার্তা আসল। তবে ফয়সাল দুবাইতে থাকার যে দাবি করছেন, সেই অবস্থান সঠিক নয়। তদন্তের তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী পলাতক ফয়সাল ভারতে অবস্থান করছেন। ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছিল বলে যে বক্তব্য ডিএমপি এর আগে দিয়েছিল, তা সত্য বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত অব্যাহত থাকবে। নতুন করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।
আলোচিত সিঙ্গাপুর বৈঠক : সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে বসেই চূড়ান্ত করা হয় শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ছক। এ উদ্দেশ্যে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছরের ২১ জুলাই সিঙ্গাপুরে যান। পরদিন ২২ জুলাই সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী একটি হোটেলে আওয়ামী লীগের চারজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন-জাহাঙ্গীর কবির নানক, ইলিয়াস মোল্লা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীসহ আরও একজন। সূত্রের দাবি, ৫ দিনব্যাপী ওই বৈঠকেই হত্যার চূড়ান্ত রূপরেখা, অর্থের লেনদেন এবং দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা হয়। ২৬ জুলাই দেশে ফেরার পরপরই ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) খোলার তথ্য পায় তদন্ত সংস্থা। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক ও পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ।
জানা গেছে, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পরিচিত তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এখনো পলাতক। তার রাজনৈতিক কার্যালয় অন্যের দখলে এবং এলাকাতেও তার কোনো খোঁজ নেই। পারিবারিক সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে দেশ ছাড়েন তিনি। সর্বশেষ তার অবস্থান ছিল দুবাই। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বাপ্পী আওয়ামী লীগের একটি গোপন ইউনিটের সদস্য ছিলেন। ওই ইউনিটের সদস্যরা গুপ্তহত্যা, টার্গেট কিলিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের কাজে যুক্ত। হাদি হত্যাকাণ্ড সেই ইউনিটেরই একটি পরিকল্পিত অপারেশন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
হাদি হত্যায় কার কী দায় : ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তে গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট, পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। শরিফ ওসমান বিন হাদিকে সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম। তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজনই ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান।
ডিবি জানায়, ফয়সাল করিমের ভগিনীপতি মুক্তি মাহমুদ (৫১) ফয়সাল ও আলমগীরকে নিজ বাসায় আশ্রয় দেন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংরক্ষণ করেন। আর ফিলিপ স্নাল (৩২) ফয়সালসহ অন্য আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সরাসরি সহায়তা করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), সিবিয়ন দিও (৩২) ও সঞ্জয় চিসিম (২৩) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
ফয়সাল করিমের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং নরসিংদীতে অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মা হাসি বেগম (৬০) ফয়সাল ও আলমগীরকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন। ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তারও (৪২) একইভাবে আসামিদের আশ্রয় দেন এবং অস্ত্র সংরক্ষণে সহায়তা করেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪) স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার খরচ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু (২৭) ঢাকায় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহ করে নরসিংদীতে নিয়ে যান এবং সেটি তার ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল (২৫) নামের এক ব্যক্তির কাছে রাখেন। ফয়সালের বন্ধু মো. কবির (৩৩) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফয়সাল ও আলমগীরের বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১) হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) নামের আরেক আসামির বিরুদ্ধেও হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদির মাথায় গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর মামলা হয় পল্টন থানায়। বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। এই হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতিতে ভিন্নমতের নিরাপত্তা, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রভাব এবং পলাতক অপরাধীদের আশ্রয়ের মতো প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। এখনো আদালতে চার্জশিট জমা পড়েনি। আশা করি সব প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই জমা পড়বে।’


