ঢাকাশনিবার , ২ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিয়ামতের দিন সবার আগে যে ২ বিষয়ের হিসাব ও বিচার হবে

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মে ২, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৩৪

ধর্ম ডেস্ক :: কিয়ামতের দিন সবার আগে যে ২ বিষয়ের হিসাব ও বিচার হবে

 

পবিত্র কুরআনে কিয়ামত দিবসের ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সেদিন কিছু কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে। সহাস্য, প্রফুল্ল। আর কিছু কিছু চেহারার ওপর সেদিন থাকবে মলিনতা। (সুরা আবাসা, আয়াত: ৩৪-৪০)

 

সেদিন বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম। আর হাশর-নশরে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও সাক্ষ্য দেবে। পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘যেদিন তাদের জিহ্বাগুলো, তাদের হাতগুলো ও তাদের পাগুলো তারা যা করত, সে ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। সেদিন আল্লাহ তাদেরকে তাদের ন্যায্য প্রতিদান পুরোপুরি দিয়ে দেবেন, আর তারা জানবে যে, আল্লাহই সুস্পষ্ট সত্য। (সুরা নূর, আয়াত: ২৪

বান্দার তওবা ও আল্লাহর ক্ষমার যে অনন্য নজিরের কথা হাদিসে এসেছে

এজন্য পরকালে সফল হতে পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনে মহান আল্লাহর হুকুম যেমন মেনে চলা জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণও জরুরি। তাহলেই পরকালে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।

 

এ ক্ষেত্রে কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবার আগে বান্দার কাছ থেকে নামাজের হিসাব নেবেন। আর বিচারের মধ্যে সর্বপ্রথম বিচার করা হবে মানুষ হত্যার। হুরায়স ইবনু কাবীসা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে কিয়ামতের দিনে সবার আগে নামাজের হিসাব নেয়ার কথা এসেছে।

 

হুরায়স ইবনু কাবীসা (রা.) বলেন, একবার আমি মদিনায় এলাম। এরপর দোয়া করলাম- হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য একজন নেক সঙ্গী লাভ সহজ করে দাও। পরে আমি আবু হুরায়রা (রা.) এর কাছে গিয়ে বসলাম। তখন তাকে বললাম, একজন নেক সঙ্গী জুটিয়ে দিতে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম। অনুগ্রহ করে আপনি রাসুল (সা.) থেকে যে হাদিস শুনেছেন তা আমাকে শুনান। হয়তো আল্লাহ তা’আলা এর মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করবে

 

পরে আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম হিসাব নেয়া হবে সালাতের (নামাজের)। যদি তা সঠিক বলে গণ্য হয়, তবে সে হবে কল্যাণপ্রাপ্ত ও সফলকাম। আর যদি তা সঠিক বলে গণ্য না হয়, তবে সে হবে অসফল ও ক্ষতিগ্রস্ত। ফরজের মধ্যে যদি কোনো ত্রুটি দেখা যায়, তবে মহান রাব্বুল আলামিন ফেরেশতাদের বলবেন- দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল আমল আছে কি? তা দিয়ে তার ফরজের যতটুকু ত্রুটি আছে তা পূরণ করে দাও। পরে এমনভাবেই হবে অন্যান্য সব আমলের অবস্থা। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ১৪২৫; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৪১৩)

 

অন্যদিকে কিয়ামতের দিনে বিচারের ক্ষেত্রে সবার আগে মানুষ হত্যার বিচার করা হবে। কারণ, মানুষকে হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ। এর জন্য শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও আছে ভয়ংকর শাস্তি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা জমিনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে, সে যেন তামাম (সব) মানুষকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকে বাঁচাল।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৩২)

 

এ ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৮৯ ও ৬৩৯৯)