
মো: আম্মার হোসেন আম্মান :: বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে ফারুকের কঠোর অবস্থান, ৩০ ওয়ার্ড মাদকমুক্ত করার ঘোষণা।
আমানতগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের
বরিশাল নগরীতে মাদকের বিস্তার রোধ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। নগরীকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ টিভি মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। এ সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদ খান তুষারসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান, লক্ষ্য ৩০ ওয়ার্ড
বরিশাল নগরীতে মাদকের বিস্তারকে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নগরবাসীকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মাদক নির্মূলের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের একার নয়; পরিবার, সমাজ, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তবে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়মিত কার্যক্রম, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই হবে এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
‘সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—খোঁজ রাখতে হবে’
মাদকবিরোধী বক্তব্যে অভিভাবকদের দায়িত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং কী ধরনের পরিবেশে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে।
তাঁর মতে, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে শুধু অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা।
মাদকাসক্তির ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করা গেলে অনেক তরুণকে বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে মাদককে কেন্দ্র করে অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন এই বিএনপি নেতা।
প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে
মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে কার্যকর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা নয়, মাদকের বিস্তার রোধে ধারাবাহিক নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মনিরুজ্জামান খান ফারুকের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা। তিনি মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নগরবাসীকে এ উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত এই অবস্থান যেন শুধু বক্তব্য বা সাময়িক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নিয়মিত কার্যক্রম, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্য দিয়ে তা দৃশ্যমান হয়।
ঘোষণার বাস্তবায়নেই নির্ধারিত হবে সাফল্য
বরিশালের ৩০টি ওয়ার্ডকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি বড় লক্ষ্য। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়।
বিশেষ করে মাদক বিক্রি ও সরবরাহের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের সচেতন করা এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হতে পারে।
আমানতগঞ্জ টিভি মাঠ এলাকায় পরিচালিত অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন কতটা ধারাবাহিকতা পায়, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের মানুষ। ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও তাঁর দলের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই মাদকবিরোধী উদ্যোগের কার্যকারিতা।
মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান, তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষা এবং নিরাপদ নগরী গড়ার প্রত্যয়—এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে বরিশালের ৩০টি ওয়ার্ডে কার্যকর মাদকবিরোধী কার্যক্রম গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

