ঢাকারবিবার , ৫ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উপকূলের আরও কাছে সুপার টাইফুন, এলাকাবাসীকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৫, ২০২৬ ৬:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৮২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হানার আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, টাইফুনটি উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে। দ্রুত এর গতি বদলাচ্ছে। রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

 

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার ভোরে টাইফুনটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫৭ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) বেগে বাতাস বইতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড় এবং এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভারী বৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য বন্যা ও প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের মধ্যে বাভি সরাসরি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করবে। তবে ঝড়ের কেন্দ্র পৌঁছানোর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আগে ও পরে প্রবল ঝড়ো হাওয়া এবং ধ্বংসাত্মক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে। বিশেষ করে যেসব বাড়ি প্রবল বাতাস বা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ঝড় চলাকালে বাইরে বের হওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

 

প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জনসংখ্যার পর্যটননির্ভর দ্বীপ গুয়ামে স্কুলগুলোতে পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১,৭০০ জন আশ্রয় নিতে পারবেন এবং এগুলো মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের জন্য নির্ধারিত। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার দুপুরের মধ্যেই একটি আশ্রয়কেন্দ্র পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে অন্য কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

অপরদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর অধীন জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার সময় ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতি ১৫০ নট (১৭৩ মাইল/ঘণ্টা) এবং দমকা হাওয়ার গতি ১৮০ নট (২০৭ মাইল/ঘণ্টা) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও শক্তিশালী টাইফুনের ঘটনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের মতে, সুপার টাইফুনের ধ্বংসাত্মক শক্তি ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।