
আরিফ বহমান :: সন্ত্রাসীরা নানান খেতাবে ভূষিত
সভ্যতার যতই অগ্রগতি হচ্ছে, সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডও ততই বেড়ে চলেছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এদেরকে অনেকে আবার রাজনৈতিকভাবে লালনও করছেন। যাদের দায়িত্ব সন্ত্রাস নির্মূলে মুখ্য ভূমিকা রাখা। তাদেরই কেউ কেউ আবার সন্ত্রাস লালনে মুখ্য ভূমিকা রাখছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে। এই সব সন্ত্রাসীরা আবার নানান খেতাবে ভূষিত। এদের অনেকেরই বিভিন্ন টাইটেল রয়েছে। নামের চাইতে টাইটেলই বিখ্যাত। এক সময় মহৎ ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক নেতা কর্মী কিংবা দাতাদের বিশেষণ দিতে গিয়ে টাইটেল ব্যবহার করা হতো। যেমন গরিবের বন্ধু, দেশ দরদী, বিপ্লবী বক্তা সংগ্রামী জননেতা, কিংবা দানশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দাতা হাতেম তাই ঐতিহাসিক নেতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
পরবর্তীতে প্রায় সবার ক্ষেত্রেই ব্যবহারের কারণে শব্দগুলো গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। তখন নেতা-কর্মী ও অনুসারীরা অভিধান ঘেটে নতুন শব্দ সন্ধান করে তাদের নেতাদের নতুন টাইটেল বা বিশেষণ প্রদান করে। একটা সময় ছিল সন্ত্রাস সন্ত্রাসী রাইফেল রিভলবার বোমা এই শব্দগুলো আমরা কম শুনেছি এবং কম ব্যবহৃত হয়েছি। এখন এসব শব্দ এদের নৃসংশতার কারণে প্রায় সবার মুখে মুখে। এই পেশা বা নেশার সঙ্গে যারা জড়িত তারাও আপন আপন টাইটেলে পরিচিত এবং তাদের অঙ্গনে বিখ্যাত।
যেমন গালকাটা কামাল, মুরগি সেলিম, ছিলা লস্কর, ডগ সাত্তার, টোকাই মিজান, কাঙ্গালী জাকির, টাইগার বাবুল, কাটা গিয়াস, ফুটা রহিম, চশমা বাবুল, ল্যাংড়া মাসুদ, ডাল হারুন, ছ্যাকা আলম ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের সবার নামের পিছনেই যে শব্দগুলো রয়েছে তারও নাকি ইতিহাস আছে। যেমন কামালের গাল কাটা ছিল তাই গালকাটা কামাল, সাত্তারের ডগ ছিল তাই ডগ সত্তার, ফুটো রহিমের হাতের তালু ছোট ছিল তাই সে ফুটা রহিম, আলম প্রেম করে প্রেমিকা কর্তৃক ত্যাজ্য হয়েছে তাই ছ্যাঁকা আলম কাঁটার রাইফেল নিয়ে ঘুরতো বলে গিয়াসের টাইটেল হয়েছে কাটা গিয়াস। সবার নামের টাইটেল ব্যাপারে এমনি সব যৌক্তিক (!) কারণ রয়েছে। এসবই গত শতাব্দীতে উদ্ভাবিত টাইটেল। এ ধারায় এদের অগ্রযাত্রা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে নতুন শতাব্দীতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। নতুন শতাব্দীতে বিজ্ঞান এবং অস্ত্রশস্ত্রের অনেক উন্নতি হবে। তখন এসব সন্ত্রাসীরা কাটা রাইফেল, চাক্কু বা রিভলবার নিয়ে ঘুরবে না। কারণ এক সময় ঘুষি বা চড় দেওয়া ছিল অত্যন্ত সাহসের ব্যাপার। অমুক অমুককে প্রকাশ্যে ঘুসি মেরেছে এটা নিয়ে বিচার শালিসি বসতো।এরপর কাটা রাইফেল, রিভলভার বোমা পর্যন্ত এসেছে। পরবর্তীতে এইসব টাইটেল পরিবর্তন হয়ে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এদের যে সবটাইটেল হতে পারে তা অনেকটা এরকম যেমন কম্পিউটার রফিক, ডিশ বাবুল, স্যাটেলাইট কুদ্দুস, মর্টার সাত্তার, রকেট লঞ্চার মিজান, মহাকাশ রহিম, মেশিনগান বক্কর ইত্যাদি। অন্ততঃ আমাদের সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতা তাই বলে। সুতরাং এই মুহূর্তে যদি এই বন্ধ করার কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেওয়া না হয় তাহলে ঘরেও কেউ নিরাপদ থাকবে না। প্রতিটি সাধারণ মানুষই হবে হুমকির সম্মুখীন। সুতরাং এই নতুন শতাব্দীতে আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। আরিফ রহমান – লেখক ও গবেষক

