
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর চানমারি মাদ্রাসা গলি এলাকায় আল-আমিন নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে অপহরণের চেষ্টা প্রতিহত করায় দুই ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে চানমারি মাদ্রাসা কলোনির ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহতরা হলেন—মৃত মোশারেফ মুন্সির ছেলে ও শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর অফিস সহকারী তরিকুল ইসলাম তারেক এবং তার বড় ভাই আরিফ। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তারেক জানান, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের বাসার পাশের ভাড়াটিয়া কাঠমিস্ত্রি আল-আমিনকে মারধর করে অপহরণের চেষ্টা করছিল স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার বাপ্পি ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি টের পেয়ে তারেক এগিয়ে গিয়ে বাধা দেন এবং আল-আমিনকে উদ্ধার করেন। এ নিয়ে বাপ্পির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বড় ভাই আরিফ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুই ভাই নিজ বাসায় ফিরে গেলে বাপ্পি, ভুলু, রাকিব, রাব্বি ও সাগরসহ একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। প্রাণভয়ে দুই ভাই ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ঘরে লুটপাট চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পি ও তার সহযোগীরা চানমারি মাদ্রাসা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে এই কিশোর গ্যাং। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
হামলার শিকার পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবহিত হয়েছি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

