ঢাকাশুক্রবার , ৪ এপ্রিল ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পটুয়াখালীতে রহমান মিলন  নামে এক কারারক্ষীর মর*দে*হ উদ্ধার

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক  :: পটুয়াখালীতে রহমান মিলন  নামে এক কারারক্ষীর মর*দে*হ উদ্ধার

বরিশাল বিভাগের  পটুয়াখালী জেলা কারাগারের ব্যারাক থেকে সাজেদুর রহমান মিলন (৪২) নামে এক কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে কারারক্ষীদের ব্যারাক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাজেদুর রহমান শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার বাসিন্দা।

তার বাবা মো. সাইফুল ইসলামও একজন কারারক্ষী ছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা কারাগার থেকে বদলি হয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে যোগদান করেন সাজেদুর। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টায় সাজেদুর রহমানের ডিউটি শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়।

তবে ডিউটি শেষে তিনি বাসায় না ফেরায় তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম কারাগারে যান এবং তাকে খুঁজতে শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কারারক্ষীরা নিচতলার একটি ব্যারাকের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কারারক্ষীর স্ত্রী ফাহিমা বেগম অভিযোগ করেন, সাজেদুর রহমান বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন।

এ কারণে তিনি জেলা কারাগারের জেলার মো. লাভলুর কাছে ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু লাভলু স্যার ছুটি না দিয়ে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বান্দরবানে বদলি করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘স্যার যদি আমার স্বামীকে ছুটি দিতেন, তবে আজ এমনটা হতো না।’ সহকর্মীদের ধারণা, ঈদের ছুটির আবেদন নামঞ্জুর হওয়া, উপরন্তু অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ ও বদলির হুমকির কারণে মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, সাজেদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। বর্তমানে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।