
নিজস্ব প্রতিবেদক :: তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও দাম চড়া। আর এই চড়া দামের তরমুজের আসা-যাওয়া বরিশালের উপর দিয়ে। বরিশালবাসী চেয়ে চেয়ে দেখেন মোটা-তাজা বড় বড় তরমুজ যা ওজন হিসাবে ৫-১৫ কেজি পর্যন্ত। এসব তরমুজ বরিশালে এসেই ট্রাক বোঝাই হয়ে চলে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, সিলেট চট্টগ্রাম। আর এজন্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বরিশালবাসীকেই। কেননা বরিশালে ফলের একমাত্র বাণিজ্যিক আড়ৎদারী নদী তীরবর্তী পোর্ট রোড বাজারকে ঘীরে। গত প্রথম রোজা থেকেই ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়েছে তরমুজ বহনকারী ট্রাকের জন্য। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সকাল থেকেই ট্রাক বোঝাই করার কাজ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পোর্ট রোড বাজারের নিয়মিত ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। আবার ট্রাক-লরির কারণে সড়কের উপর সবজি, মাছ বা গৃহস্থালি পণ্য বিক্রির দোকানগুলোকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আগত সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে শুধু তরমুজের ট্রাক না মাছের ট্রাকও রয়েছে। তাছাড়া এই মাসটায় এ সমস্যা হবেই কিছু করার নাই।
এখানে যে ব্যক্তি মাছের আড়ৎদার, সে-ই আবার ফলের বাণিজ্য করছেন। ব্যতিক্রমও রয়েছে। শুধু ফলের আড়ৎদারী করছেন এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী রলেন, মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাই তরমুজ নিয়ে বাণিজ্য করছেন। ২২ মার্চ শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এসব চিত্র।
দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল থেকে ট্রলার বোঝাই তরমুজ আসছে বরিশালের পোর্ট রোড বাজারে। কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী অন্যতম একটি বাণিজ্যিক এলাকা এই পোর্ট রোড। এখান থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মাছের পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। চলতি বছর জেলায় ১৯ লাখ টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। যে কারণে গরম সেভাবে না পড়লেও প্রথম রমজানের দিন থেকেই তরমুজ আসতে শুরু করেছে পোর্ট রোড বাজারে। তবে এবার আড়তে জমা না করে সরাসরি ট্রলার থেকেই ট্রাকে তুলে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী। তারা ইচ্ছেমতো ট্রাক ও লরি দিয়ে দখল করে নিয়েছে পোর্ট রোড। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ট্রাকে তরমুজ বোঝাই করছে তারা। ফলে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে প্রচন্ড যানজট ও জনজট। এতে করে পোর্ট রোড বাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা এবং আশেপাশের এলাকার সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ পোর্ট রোড বাজারের মানুষের। আর এ নিয়ে কিছুই করার নেই ব্যবসায়ী নেতাদের। তারা বলেন, আড়তদারী খরচ বাঁচাতে কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনে ফল ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নিজেরাই সরাসরি পণ্য ট্রাকে তুলে দিচ্ছে। এতে আড়ৎদারদের করার কিছু নেই।
পোর্ট রোড বাজারের ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের দাবী, আড়ৎদার আর ফল ব্যবসায়ী কি আলাদা কেউ, যে ব্যবসায়ী, সেই আড়ৎদার।
অন্যদিকে ট্রলার থেকে ট্রাকে পণ্য ওঠানো শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগই আড়ৎদার ও ফল ব্যবসায়ীদের নিজস্ব শ্রমিক।
এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শরফুদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হয়েছে। তারা দিনে নয়, রাতে এবং খুব জরুরী হলে দুপুর ২টার পর পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এর ব্যতিক্রম অভিযোগ পেলে কঠোর হতে বাধ্য হবো।