
স্টাফ রিপোর্টার :: ফ্যাসিস্ট আ.লীগ শাসনামলে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) থেকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে নেয়া প্লানের ভবন কার্যক্রম উত্তোলনের কারণে থানা আদালতে অভিযোগ দিয়েও সমাধান মিলছে না। এমন কথা ব্যক্ত করেন নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডস্থ হালিমা খাতুন স্কুলের পূর্ব লেনের বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ থানা ও আদালতে অভিযোগ দায়ের করলেও অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই ফাঁকে ফাঁকে ভবন নিমার্ণ কার্যক্রম চলছে।
মিজানুর রহমান বলেন, বিসিসি ভবনে প্লান নিয়ে বৈষম্যতা সৃষ্টি করেছে। ১৯৯০ সালের ৬ জুন আমার পিতা মোশাররফ হোসেন জীবিত থাকা অবস্থায় আমি (মিজানুর রহমান) ও আমার ভাই মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে দলিলমূলে প্রায় ২ শতাংশ (.০১৮ সহস্রাংশ) জমি ক্রয় করেন। জমির পাশে থাকা ৪ শতাংশ জমি (পরিত্যাগক্ত হিন্দু বাড়ি) সমানভাবে ভোগ দখলীয় মালিক আমরা দুই ভাই। এসএ পর্চায় বাবার ক্রয়কৃত জমির সমান মালিক দুই ভাই। আর বিএস পর্চায় দুই দুই করে যুক্ত হয়েছে ওই ভোগ দখলীয় ৪ শতাংশ জমি। বিএস পর্চা এখন পর্যন্ত গেজেট হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমার ভাই মৃত্যুর পর অর্ধেক সম্পত্তির মালিক হয় ভাইয়ের ২ মেয়ে ও স্ত্রী। ভাইয়ের বড় মেয়ে সায়েমা জাহান মীম মাস্টার রুলে চাকুরী করেন বিসিসি’র কর শাখায়। সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহর সময় তারা ভবনের প্লান নেয়। আর এখন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। অথচ আমি বিসিসিতে প্লান নিতে গেলে বলা হয়- .০১৮ সহস্রাংশের অর্ধেক জমিতে প্লান দেয়া হয় না। আর বিএস পর্চার জমি যুক্ত করে প্লান দেয়া সম্ভব নয়। কারণ বিএস পর্চা এখন পর্যন্ত গেজেট হয়নি। তারা আমার জমি সহ ভবনের প্লান আনছে। তাই পরবর্তীতে এক জমির অনুকূলে দুই বার প্লান দিবে না। তারা এককভাবে প্লান আনলে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
মৃত হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মোসা. মরিয়ম আক্তার শিউলি বলেন, সাবেক মেয়দ সাদিক প্লান দিয়েছে। নিয়ম অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে সাদিকের বিরুদ্ধে মিজানুর রহমান মামলা করুক। স্বামী মরার পর থেকে এই মিজানুর আমাদের নানা ভাবে জ্বালা-যন্ত্রণা দিয়ে সংসার জীবন তছনছ করে দিচ্ছে। আমার প্লান আমি দেখাবো না। যদি দেখাই একমাত্র মিঠুকে দেখাবো। তাছাড়া অন্য কাউকে নয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা কর্মী। আমার জমি আর মিজানুরের জমি আলাদা রয়েছে।
প্লান বর্হিভূত ভবন নিমার্ণ সহ পাইলিং বসানোর সময় বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত অভিযোগ এনে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বরিশাল সদর কোতয়ালী মডেল থানায় ও বিসিসি’র প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তার বরাবর পৃথক ৩টি অভিযোগ দায়ের করেন মিজানুর রহমান। আবার ২৪ ডিসেম্বর এলইউসি সংশোধনের জন্য বিসিসিতে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ রাখেননি।
পরে মিজানুর রহমান বাদি হয়ে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদী মোসা. মরিয়ম আক্তার শিউলি গং (৪৫) নিমার্ণ কার্যক্রম চলমান রাখায় বাদি ১ জানুয়ারী আদালতকে অবগত করেন। বিচারক বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর মরিয়ম আক্তার শিউলি ভবন নিমার্ণ কার্যক্রমে ১০ লাখ চাঁদার দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট আমলী আদালতে ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলার আসামি হলেন- মিজানুর রহমান ও তার ছেলে রাকিন রহমান, শ্যালক বাবু ও ভাগিনা শাওন।


