ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীর লালা দিঘী রক্ষায় তৎপর পরিবেশ অধিদপ্তর-ইয়ুথনেট গ্লোবাল

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজেস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী লালা দিঘী দখল ও ভরাটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ দিঘী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত প্রায় ৫ একর ৮০ শতাংশ আয়তনের ঐতিহ্যবাহী লালা দিঘী দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অব্যবস্থাপনায় বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে দিঘিটির দক্ষিণ পাড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ অংশ পাইপের মাধ্যমে বালু ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ওই এলাকায় পাইলিংও দেওয়া হয়েছে।
হাউজিং কর্তৃপক্ষের দাবি, দিঘিটির পাড় অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং তারা দখল বুঝে নিচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, লালা দিঘী ভরাটের বিষয়ে তাদের কোনো অনুমোদন বা পূর্ব অবগতির বিষয় নেই।

পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন,
সরেজমিনে ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। গণপূর্ত বিভাগের কাছে কাগজপত্র চাইলে তারা কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। ইতোমধ্যে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে। লালা দিঘী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া দিঘির অংশ ভরাট সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে পরিবেশ আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন-লালা দিঘী শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি বরিশালের ঐতিহ্য ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভরাট অব্যাহত থাকলে অচিরেই দিঘিটি বিলীন হয়ে যাবে। আমরা অবিলম্বে ভরাট বন্ধ, দখলমুক্তকরণ এবং দিঘী সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছি।সরেজমিনে দেখা গেছে, দিঘিটির দক্ষিণ অংশে পাইলিং দিয়ে পাইপের মাধ্যমে বালু ভরাট করা হয়েছে, যা জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ ও আয়তন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী এই দিঘীর অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশালের রুপাতলী হাউজিং স্টেট উপবিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“লালা দিঘী ৪৫২৪ নম্বর দাগের। তবে দিঘিটির দক্ষিণ পাড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ জমি ১৯৭৭–৭৮ সালে রুপাতলী হাউজিং স্টেটের নামে অধিগ্রহণ করা হয়। ওই জমি বালু ভরাট করে দখল বুঝে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে প্লট করা হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন,
এটি দিঘী নয়, দিঘীর পাড়। আমাদের অংশ ভেঙে গেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নেজাউল বারী বলেন,
এটি লালা দিঘীর অংশ। তবে হাউজিং কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই এটি অধিগ্রহণ করেছে। এদিকে লালা দিঘীর পাড় দখল করে হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছে। গতকাল বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে সরকারের তিন সচিবসহ মোট নয়জনের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে। নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বরিশাল উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী।