ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ মে ২০২৪

জেলায় জেলায় নামল বৃষ্টি, বজ্রাঘাতে মৃত্যু ৫ 

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মে ২, ২০২৪ ৬:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিউজ ডেস্ক :: জেলায় জেলায় নামল বৃষ্টি, বজ্রাঘাতে মৃত্যু ৫

অবশেষে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তির বৃষ্টি। দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ মে) সকাল নয়টার দিকে চট্টগ্রামের কিছু কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগে গতকাল বুধবার রাতেও কিছু কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির দেখা পেয়েছেন ফেনীবাসী। তবে বৃষ্টির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৩-৪ মিনিট। ফেনী আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৃষ্টি ৩-৪ মিনিট স্থায়ী ছিল। এ সময় ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

রাঙামাটিতে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু ও সাতজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বজ্রাঘাতে রাঙামাটি সদরের সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা মো. নজির (৫০) এবং বাঘাইছড়ির বাহার জান বেগম (৫৫) নামের দুইজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও বাঘাইছড়ির বড়াদম গ্রামে স্বপন চাকমার দোকানে বজ্রাঘাতে সাতজন আহত হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসর শিরিন আক্তার জানান, উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের মুসলিম ব্লক গ্রামে গরু নিয়ে বের হওয়ার সময় বজ্রাঘাতে বাহারজান বেগম (৫৫) নামে একজন নারী নিহত হয়েছেন। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শওকত আকবর জানান, মো. নজির নামের এক ব্যক্তিকে জরুরিভাবে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন সকালে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার জন্য বড়শি নিয়ে বসে ছিলেন। এমন সময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।

খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গায় বজ্রাঘাতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মাটিরাঙ্গার বড়নালের ইব্রাহিম পাড়ায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইয়াছিন আরাফাত। ওই এলাকার ইউসুফ মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন।

জানা যায়, বৃষ্টির আগে দমকা হাওয়ার সময় বাড়ির পাশের গাছ থেকে আম কুড়াতে যায় আরাফাত। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।

মাটিরাঙ্গার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে বিধিমোতাবেক সহযোগিতা করা হবে।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই লবণচাষীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কোদাইল্যাদিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়নের ছড়ি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া এলাকার জমিরের ছেলে দিদারুল ইসলাম (৩৫) ওরাজাখালী ইউনিয়নের ছড়ি পাড়া এলাকার জামালের ছেলে মো. আরমান (২৫)।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, মগনামার কোদাইল্যাদিয়ায় ভোরে দিদার লবণ মাঠ পরিচর্যা করতে গেলে হঠাৎ বজ্রাঘাতে দগ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজাখালীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, বুধবার রাতে প্রচুর বজ্রাঘাত হয়। ভোরেও বজ্রাঘাত অব্যাহত থাকে। রাতের বৃষ্টিতে লবণমাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষী আরমান তা পরিচর্চা করতর যায়। ওই সময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়

বুধবার (১ মে) দিবাগত রাত ২টার রংপুর জেলার বদরগঞ্জ, পীরগাছা ও মিঠাপুকুরে বৃষ্টি ঝরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বুধবার রাতে হঠাৎ বৃষ্টি হয়েছে, তবে কত মিলিমিটার তা পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুরের আকাশে সূর্য উঠলেও আবহাওয়া শীতল রয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, রংপুর অঞ্চলে বৃহস্পতিবার দিনে বা রাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

নেত্রকোণা শহরের বিভিন্ন স্থানের হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য বৃষ্টির দেখা মিলেছে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের মোক্তারপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় হালকা ও মাঝারি ধরনের বাতাসের পাশাপাশি বৃষ্টি ঝরে। বৃষ্টির ফলে জনমনে স্বস্তি নেমে আসে; যদিও বৃষ্টির স্থায়িত্ব ছিল অল্প সময়। তীব্র তাপপ্রবাহে ধুঁকতে থাকা মানুষ বৃষ্টি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২ মে) আবহাওয়ার খবর বলা হয়েছে- চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা ও রাজশাহী জেলা সমূহের উপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ এবং খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র মৃদু থেকে মাঝারী ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা দেশের পূর্বাঞ্চলের কিছু জায়গা হতে প্রশমিত হতে পারে।

দেশের পশ্চিমাঞ্চলের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দেশের অন্যত্র তা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।