
মুহাম্মাদ আলআমিন সিকদার :: পোষা প্রাণীর প্রতি দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত : কুকুরছানাকে অ্যাডাপশনে দিয়ে আবেগঘন বার্তা নারী আইনজীবীর।
পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা যে শুধু আবেগ নয়, বরং দায়িত্ব, সাহস ও ত্যাগের সমন্বয়—তার এক মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন বরিশালের এক নারী আইনজীবী শিক্ষানবিশ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পোষা কুকুরছানার কিছু ছবি ও আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে তিনি জানান, বাস্তবতার কঠিন নিয়ম মেনেই তিন মাস লালন-পালন করা একটি কুকুরছানাকে আবারও অ্যাডাপশনে দিতে হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,
“অনেক আদর-যত্নে ৩ মাস বড় করে আজ আবারও একজনকে এডাপশনে দিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ। ভালো থাকিস কালু। কষ্ট হয়েছে দিতে, তবুও দিতেই হবে—এটাই নিয়ম।”
তিনি বিশ্বাস করেন, পোষা প্রাণীরা মানুষের উপকার ও পাহারার জন্যই পৃথিবীতে আসে।
বিদায়ের মুহূর্তের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, যাওয়ার আগে নিজের জ্যাকেটের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কুকুরছানাটিকে জামা পরিয়ে দেন। এমনকি কুকুরটির মা ‘মন্টু’ বিকেল থেকে তার সঙ্গে কথা বলছে না, কাছেও আসছে না—এমন অনুভূতির কথাও শেয়ার করেন তিনি।
পোস্টে উঠে আসে সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি অভিযোগ করেন, বাসায় না থাকলে কেউ কেউ বিষ খাইয়ে কুকুরগুলো মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সেই আশঙ্কা থেকেই প্রাণীগুলোর নিরাপত্তার কথা ভেবে দূরে রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি লেখেন,
“ভালোবাসি তোদের সবাইকে। তাই চাই দূরে তোরা ভালো থাক।”
পোস্টের শেষাংশে কুকুরছানাটির জন্য দোয়া করেন তিনি এবং যারা নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রাণীগুলোর দেখভাল করেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে তিনি ধন্যবাদ জানান জর্জ তালুকদার-কে, যিনি কুকুরছানাটিকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেন এবং চিকিৎসা ও যত্নে সর্বদা পাশে থাকেন।
এই মানবিক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সাহস, দায়িত্ববোধ ও প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।
সময় খবর টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি উম্মে সালমা নীরা। বর্তমানে তিনি বরিশাল জজ কোর্টে একজন Apprentice Lawyer হিসেবে কর্মরত।
তিনি বরিশাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বরিশাল সরকারি গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন।
তার জন্মস্থান ও বর্তমান বসবাস—উভয়ই বরিশাল।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে—পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা মানে শুধু কাছে রাখা নয়; বরং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই প্রকৃত মানবিকতা। সমাজে সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।


