
নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক হৃৎপিণ্ডখ্যাত বরিশাল-৫ (সদর) আসন এখন নির্বাচনি উত্তাপে টালমাটাল। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দৃশ্যপটের বাইরে থাকায় এই আসনে লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তিন দলেরই শক্তিশালী অবস্থান থাকায় এখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ, যা সমীকরণকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে।
বিএনপির দুর্গ পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ
বরিশাল-৫ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন নির্বাচনে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থী-জট দলটির জন্য বড় চিন্তার কারণ। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সদস্য আবু নাছের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সক্রিয়তা এবং নগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে সরোয়ারের দূরত্ব তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। তবে ধানের শীষের বড় ভোটব্যাংক ও সরোয়ারের ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি।
নির্ভার জামায়াত, টার্গেট তরুণ ভোটার
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী অনেক আগে থেকেই এই আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জামায়াত এখানে কৌশলী অবস্থানে রয়েছে; তারা শুধু দলীয় ভোট নয়, বরং তরুণ ভোটার এবং আওয়ামী লীগ বিমুখ একটি অংশের ভোট টানার চেষ্টা করছে। নিয়মিত সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং শৃঙ্খল প্রচারণার মাধ্যমে তারা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
ফ্যাক্টর যখন ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই)
বরিশালের রাজনীতিতে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন বড় এক শক্তি। এই আসনে দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম প্রার্থী হতে পারেন বলে প্রবল গুঞ্জন রয়েছে। গত সিটি নির্বাচনে তার ওপর হামলার ঘটনায় সৃষ্ট জনসৈালকে কাজে লাগিয়ে তারা এবার সংসদ নির্বাচনে চমক দেখাতে চায়। বিশেষ করে সদর উপজেলার ধর্মীয় ভোট ও বিশাল কর্মী বাহিনী অন্য দুই বড় দলের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জোট না কি একক লড়াই?
বর্তমানে কেন্দ্র পর্যায়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতার গুঞ্জন থাকলেও বরিশাল-৫ আসনে তার প্রভাব খুব একটা পড়ছে না। তিনটি দলই এখন পর্যন্ত এককভাবে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তবে এখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণে সাধারণ ও নিরপেক্ষ ভোটাররাই হবেন মূল ফ্যাক্টর।
বরিশাল-৫ আসনে রাজনীতির মাঠ এখন ‘ভোটের গাণিতিক হিসাব’ মেলানোর অপেক্ষায়। বিএনপির দলীয় ঐক্য ধরে রাখা, জামায়াতের নীরব ভোট বিপ্লব এবং ইসলামী আন্দোলনের বিশাল কর্মী বাহিনী—এই তিনের লড়াই আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনে এক টানটান উত্তেজনার জন্ম দেবে।


