ঢাকাবুধবার , ২৯ নভেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বিএনপি করা কি অপরাধ, আমার স্বামীকে ফেরত চাই’

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ‘বিএনপি করা কি অপরাধ, আমার স্বামীকে ফেরত চাই’

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আবদুল হাই ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার ৩ ছেলে ও এক ছেলের বউকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর অমানুষিক নির্যাতন করছে জেলে। তাদের দেখতে গেলে আত্মীয় স্বজনকে আটকে হয়রানি করছে পুলিশ। আমি দেশে-বিদেশের বিবেকবান মানুষকে বলতে চাই, আমরা কীভাবে দিন কাটাচ্ছি, একটু চিন্তা করুন।’

 

 

তিন ছেলের গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিয়ে আব্দুল হাই বলেন, ‘আমার তিন সন্তানকে কারা অন্তরীণ করা হয়েছে। এক ছেলেকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। বড় ছেলেকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুত্রবধূকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে পুলিশ। অথচ, আমার ছেলের বউ রাজনীতিতে জড়িত নন। বিএনপি করা কি আমাদের অপরাধ? আমরা শুধু সুষ্ঠু ভোটের অধিকার চেয়েছি।’

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে কারাবন্দি ও সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন। সে সময় তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা লিয়ন হক ও রাজিব হাসানের বোন বলেন, ‘আমার দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভাইকে এক মাস গুম করে পরে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এক বছর আগে আমার ভগ্নিপ্রতিকে লক্ষ্মীপুরে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার অপরাধ, তিনি বিএনপি করতেন।

পরে আমরা ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিলে লাশটা ফেরতে দেয়। তারা প্রথমে লাশ পর্যন্ত দিতে চায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, যদি আমার এবং আমার পরিবারের বাঁচার অধিকার না থাকে, তাহলে আমাদের সবাইকে একসাথে মেরে ফেলুন, একজন একজন করে কষ্ট দিয়ে মারবেন না। আমরা বিএনপির রাজনীতি করে অপরাধ করেছি, আমরা পুরো পরিবার এখন মরতে চাই’।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনিরুজ্জামানের স্ত্রী বলেন, ‘রাত ২টা বাজে দরজা ভেঙে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমার স্বামী বয়স্ক, পুলিশকে কত আকুতি মিনতি করলাম, বয়স্ক-অসুস্থ-নির্দোষ লোকটাকে না নিয়ে যেতে। তারপরও পুলিশ বাসায় ভাঙচুর করে নির্দয়ভাবে তাকে তুলে নিয়ে যায়।’

আমান উল্লাহ আমানের বড় ভাইয়ের মেয়ে বলেন, ‘আমার চাচাকে না পেয়ে পুলিশ আমার বাবাকে নিয়ে নির্যাতন করেছে, রিমান্ডে নিয়েছে। তারপর আমার চাচাকে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের কী অপরাধ? তাদের অপরাধ, তারা তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনকে চেয়েছিল। তারা বিএনপি করে, এটাই তাদের অপরাধ।’

জেলখানায় নিহত বিএনপি নেতা আবুল বাসারের স্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার স্বামী হারানোর বিচার চাই। ওরা আমার সন্তানকে এতিম করেছে, পুলিশ গ্রেপ্তার করে অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করেছে। যার ফলে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এর স্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোথায় যাবো! আমার স্বামীর মামলার বাদী পুলিশ, মামলা করলোও পুলিশ, সাক্ষীও দিল পুলিশ। এটা কেমন বিচার?’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহানের স্ত্রী রহিমা শাহজাহান মায়া বলেন, ‘আমার স্বামীকে দুই বছরের জন্য জেল দিয়েছে। তার কোনো দোষ নাই, আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।’

 

২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি নেতা কাউসার হোসেনের স্ত্রী মিনা আক্তার বলেন, ‘আমার সন্তানের বয়স ১৩ বছর। তার বুঝ হওয়ার পর সে তার বাবাকে দেখেনি। সে বলে, মা আমার বাবার মুখ কি আর দেখতে পাবো না? তখন আমার বুকটা ফেটে যায়।’ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার তাবাসসুম বলেন, ‘বাবা গুরুতর অসুস্থ। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অথচ তাকে মুক্তি না দিয়ে জেলে ভরে রেখেছে। আমি বাবার মুক্তি চাই।’