
নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছেন শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল হাসান। পরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া বালু জব্দ করে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরসংলগ্ন শাহীবাগ এলাকায় উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বালু জব্দ করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দুজন বিএনপি নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় ছড়া থেকে প্রকাশ্যে বালু লুট হচ্ছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ও প্রশাসনের প্রভাব দেখিয়ে তারা ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছেন।
শাহীবাগ গ্রামের শাহীন মিয়া বলেন, দল ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এই দুই নেতা আমাদের এলাকার ছড়া থেকে বালু লুট করছে। আজ আমরা তাদেরকে কাগজ দেখাতে বললে তারা দেখাতে পারেনি। আমার ফেইসবুকে লাইভ করেছি এই ঘটনার। তারা বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে বালু তুলছিল। আমাদের গ্রামবাসীকে বলে আসছে, তারা লিজ নিয়ে এই বালু তুলছে কিন্তু ইউএনও জানিয়েছেন তারা এই ছড়ার বালু তুলতে কোন ইজারা দেননি। তাই এলাকাবাসী আজ তাদের ধাওয়া দেয়। আটক করে পরে তারা পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা বারবার রক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন। তবে এবার হাতেনাতে আটক হওয়ায় মানুষ তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত শামীম আহমেদ বলেন, আমি কোনোদিন বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। এখানে আজ রাস্তা মেরামতের জন্য বালু তুলছিলাম। তখন এলাকার মানুষ এসে বাধা দেন। আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ইউএনও মানুষ পাঠিয়েছেন তারা তদন্ত করে গেছেন। আর আমার সঙ্গে যে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি সাংগঠনিক কাজে আমার কাছে এসেছিলেন, কোন বালু ব্যবসার কাজে আসেন নাই।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, আমরা সবসময় ন্যায়ের পথে বিশ্বাসী। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধ বালু লুট বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। তারা দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন কাজ করার কথা না। আমি জানলাম, আমরা বিষয়টি তদন্ত করবো। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, অভিযান চালিয়ে বাড়ির আঙ্গিনা থেকে কিছু বালু জব্দ করা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীকে সতর্ক করা হয়েছে। আশ্বাস দিয়েছেন আর ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করবেন না।