ঢাকাশনিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবাকে হত্যার তিন দিন আগেই কবর খোঁড়েন ছেলে

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
আগস্ট ৩০, ২০২৫ ২:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাবাকে হত্যার তিন দিন আগেই কবর খোঁড়েন ছেলে।

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিজ বাবাকে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে জামিল খানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২২ আগস্ট উপজেলার চকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে জামিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

জানা যায়, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না কলেজশিক্ষার্থী জামিল খান। অনেক বোঝানোর পরও বাবা-মাকে নিয়ে আসতে পারেননি এক ছাদের তলে। এতে অবনতি হয় বাবা ছেলের সম্পর্কের। বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন জামিল। লাশ গুম করতে তিন দিন আগে বাড়ির পাশে খুঁড়ে রাখেন কবর। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।

নিহত রাশিদুল হক খান সুমন (৪৭) ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পার্শ্ববর্তী ধলাপাড়া বাজারে ‘খান ফার্মেসি’ নামে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান (৮২)।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুমন খান তার স্ত্রীকে তিন বছর আগে তালাক দেন এবং অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করার জন্য চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করতেন তার ছেলে জামিল। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না ছেলে। এটি নিয়ে পিতা-পুত্রের পারিবারিক সমস্যা চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা তাদের। কয়েকদিন ধরে সুমন খান অসুস্থ থাকার সুযোগে ছেলে জামিল ওষুধ খাওয়ানোর নাম করে তাকে অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

স্থানীয়রা জানান, জামিল খান তার বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রেখেছিলেন। এ জন্য তিনি তাদের বসতঘরের পাশে একটি কবর বা গর্ত খুঁড়ে রেখেছিলেন, যেন লাশ পুঁতে ফেলে সেটি গোপন বা ধামাচাপা দেওয়া যায়। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে জামিল তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর সেটিকে একটি স্ট্রোকজনিত মৃত্যু বলে প্রচারণা চালিয়ে এলাকাবাসী ও তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করে।

স্থানীয়রা আরও জানায়, সুমন খানের আকস্মিক এই মৃত্যু নিয়ে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের উদ্রেগ হলে তারা জামিলের সঙ্গে নানাভাবে আলাপচারিতা চালায়। একপর্যায়ে জামিল খান বলে, ‘তার (বাবা) জন্য কবর খুঁড়ে রেখেছিলাম বাড়ির পাশে, কিন্তু তাকে অন্যখানে দাফন করা হলো কেন।’

এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। স্থানীয়রা বলতে থাকেন, মৃত্যুর আগেই কেন কবর খুঁড়ে রাখবে ছেলে। পরে জামিল খানকে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয়রা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে সে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, জামিল তার বাবাকে কৌশলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়ে হত্যা করেছে। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানানো।

স্থানীয়রা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সুমন খান গত ২২ আগস্ট বুধবার মারা যান। এটিকে ধারণা করা হয়েছিল স্ট্রোকজনিত মৃত্যু। কিন্তু পরে প্রকাশ্যে এলো, তার নিজের একমাত্র ছেলে জামিল তার বাবাকে কৌশলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এতে সুমন খান মারা যান।

নিহতের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান জানান, রাশিদুল হক খান সুমন আমার ছেলে। আর সুমনের একমাত্র ছেলে জামিল। প্রায় বছর চারেক আগে পারিবারিক কলহের জেরে সুমনের স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়। এটি নিয়ে পিতা-পুত্রের কলহ চলছিল। কী কারণে আমার নাতি তার বাবাকে হত্যা করল তা বুঝতে পারছি না। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সুমন খান মারা যান। পরে আত্মীয়স্বজনদের কাছে তার ছেলে জামিল স্বীকার করে যে তিনি তার বাবাকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করেছে। পরে থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জামিলকে আটক করে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জিসান। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলেহাজাতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।