
স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠী সদর উপজেলার ২নং বিনয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব ওরফে সম্রাট জালিয়াতি পূর্বক গরঙ্গা গ্রামের ২ একর ৮৩ শতাংশ জমির ভুয়া ওয়ারিশ সদনপত্র প্রদানের পর ওই জমি বিক্রি দলিলে আবার প্রধান সাক্ষী হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশাল সদর উপজেলার ১নং রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা মৃত-অমল কৃষ্ণ শীলের ছেলে পঙ্কজ কুমার শীল। শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে বারোটায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।পঙ্কজ কুমার শীলের সাথে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার কাকা গোপাল চন্দ্র শীল।
লিখিত বক্তব্যে পঙ্কজ কুমার শীল বলেন, আমার বাবার পিসি (ফুপু) সুভাষিনী শীল গত ২৭/০৭/২০০১ইং তারিখে বিনয়কাঠী ইউনিয়নের গরঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের সংসারে কোনো সন্তান ছিল না। ভোগ দখল সহ এস.এ ও বি.এস পর্চার অনুকূলে ২ একর ৮৩ শতাংশ জমি সুভাষিনী শীল-এর নামে রয়েছে। হিন্দু আইনানুযায়ী সুভাষিনী শীলের জীবিত ভাইয়ের ছেলে গোপাল চন্দ্র শীল ও মৃত ভাইয়ের ছেলে অমল কৃষ্ণ শীলের পুত্র পঙ্কজ কুমার শীল ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হন।
গত ০৩/০৩/২০২১ তারিখে বিরেন চন্দ্র শীলকে সুভাষিনী শীলের ভাশুর পুত্র উল্লেখ করে রতন সরকার ও সুষেন সরকার এর নাম উল্লেখ করে বিনয়কাঠী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব যে ওয়ারিশ সনদপত্র নিয়েছে তা সঠিক নয়। এই ওয়ারিশ সনদপত্রের বিরুদ্ধে আমি পঙ্কজ কুমার শীল বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ঝালকাঠী আদালতে মামলা দায়ের করি। যার সি,আর মোং নং-২৪৪/২২ (ঝালকাঠী), তারিখ ১৬/০৬/২০২২ইং। মামলার আসামি হলেন ১) রতন সরকার, ২) সুষেন সরকার, উভয় পিতা বিরেন চন্দ্র শীল, ৩) মো. আহসান হাবিব, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ২নং বিনয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদ, ঝালকাঠী। আদালতের বিচারক দায়েরকৃত মামলার ঝালকাঠী থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ঝালকাঠী সদর থানার সাবেক ওসি মো. খলিলুর রহমানের সহযোগিতায় উক্ত থানার এস.আই সুশংকর মল্লিক উৎকোচের বিনিময়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করে গত ০৩/০৯/২০২২ইং তারিখে আদালতে একতরফাভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। আমি উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন করলে আদালতের বিচারক পুনরায় ঝালকাঠীর সিআইডি-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান ও পূর্বের ন্যায় উৎকোচের বিনিময়ে একতরফাভাবে গত ২৬/০১/২০২৫ইং তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করেন। আগের মত আমি আবারো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি আবেদন করলে বিচারক আমলে নিয়ে এবার পিরোজপুর পিবিআইকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন। যে তদন্ত চলমান রয়েছে।
চেয়ারম্যান কর্তৃক মিথ্যা ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের অনুকূলে গত ০৯/০৩/২০২১ তারিখে রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে উক্ত সুভাষিনীর ঐ ২ একর ৮৩ শতাংশ জমি ৮৬২ নং সাফ কবলা একটি জাল দলিল সম্পাদন হয়। উক্ত নং দলিলে প্রধান সাক্ষী হলেন জালিয়াতকারী চক্রের হোতা ও ওই মিথ্যা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেওয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। উক্ত আহসান হাবিব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িতে থেকে এমন জাল জালিয়াতি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
পঙ্কজ কুমার শীল ও গোপাল চন্দ্র শীল বলেন, হিন্দু আইনানুযায়ী প্রাপ্য ঐ ২ একর ৮৩ শতাংশ জমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেয়া ওয়ারিশ সনদপত্রে রতন সরকার ও সুষেন সরকার, উভয় পিতা মৃত বিরেন চন্দ্র শীল মরহুম সুভাষিনীর কোন আত্মীয়তো দূরের কথা সম্পর্কে কিছুই হন না। শুধু প্রতিবেশী এবং বিরেন চন্দ্র শীল ও সুভাষিনীর সম্পত্তি পাশাপাশি। দুইজনের এস.এ ও বিএস পরচা সহ সব কাগজপত্র একদমই আলাদা।
বর্তমানে পিবিআই সংস্থায় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন আবারো একতরফা ভাবে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঐ চেয়ারম্যান। কারণ সুষ্ঠু তদন্ত হলে ফেঁসে যেতে পারেন তিনি।
বিনয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব বলেন, এই ওয়ারিশ সনদপত্র আমার আগে থাকা তিন সাবেক চেয়ারম্যান দিয়ে গেছেন। যেমন এনামুল হক এলিন, সাইফুল ইসলাম ও পলাশ। আমি তাদের দেয়া ওয়ারিশ সনদপত্র দেখে নতুনভাবে দিয়েছে। ওয়ারিশ সনদ নেয়া রতন ও সুষেন কেউই এলাকায় নেই।